হাঁড়িভাঙা আম: নামের পেছনে লুকানো চমকপ্রদ গল্প
দেশি ফলের মৌসুমে বাজারজুড়ে এখন নানা জাতের আমের সমাহার। এর মধ্যে স্বাদ ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিশেষভাবে আলোচনায় থাকে হাঁড়িভাঙা আম। তবে এই আমের নামকরণের পেছনে রয়েছে এক ভিন্নধর্মী ও মজার ইতিহাস, যা অনেকেরই অজানা।
আমকে বলা হয় ফলের রাজা, আর সেই রাজ্যেরই অন্যতম সুস্বাদু সদস্য হাঁড়িভাঙা। আঁশবিহীন, মিষ্টি স্বাদ ও ছোট আঁটির জন্য এই আম ভোক্তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর এলাকায় এর চাষ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আমের উৎপত্তি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তেকানী গ্রামে। এই জাতের আমের সূচনা করেন স্থানীয় কৃষক নফল উদ্দিন পাইকার। তবে শুরুতে এই আমের নাম ছিল ‘মালদিয়া’।
১৯৪৯ সালের দিকে মিঠাপুকুরের উঁচা বালুয়া এলাকার একটি জমি থেকে একটি আমগাছের চারা সংগ্রহ করে সেটির কলম করেন নফল উদ্দিন। গাছটির যত্ন নিতে তিনি একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেন—গাছের সঙ্গে মাটির হাঁড়ি বেঁধে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
একদিন রাতে অজ্ঞাত কেউ সেই হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গাছটিতে তখন প্রচুর পরিমাণে সুস্বাদু আম ধরে। পরে যখন এই আম বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তখন ক্রেতারা এর নাম জানতে চান। উত্তরে নফল উদ্দিন বলেন, “যে গাছে বাঁধা হাঁড়িটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি হাঁড়িভাঙা গাছ—এই আম সেই গাছেরই।” সেই থেকেই ‘হাঁড়িভাঙা’ নামটি স্থায়ী হয়ে যায়।
এরপর এই সুস্বাদু আমের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকে। স্থানীয়রা মাতৃগাছ থেকে কলম সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাগানে রোপণ শুরু করেন। ধীরে ধীরে এলাকায় হাঁড়িভাঙা আমের বাগান গড়ে ওঠে এবং আশির দশক থেকে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়।
বর্তমানে হাঁড়িভাঙা আম শুধু রংপুর নয়, সারা দেশেই জনপ্রিয় একটি আমের জাত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্বাদ, গুণাগুণ এবং ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে এটি দেশের আমের বাজারে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!