হানিকুইন আনারসে বাজিমাত: আতর আলীর সাফল্যের গল্প 🍍
মৌলভীবাজারের Sreemangal Upazila-তে মিষ্টি ও সুগন্ধি ‘হানিকুইন’ আনারস চাষ করে সফলতার নজির গড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. আতর আলী। স্বল্প বিনিয়োগে লাভজনক এই চাষাবাদ তাকে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে, তেমনি আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্বল্প খরচে লাভজনক উদ্যোগ
সদর ইউনিয়নের ডলুছড়া গ্রামের এই কৃষক চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৫ একর জমিতে ‘হানিকুইন’ আনারস ও লেবুর চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫ হাজার আনারস বিক্রি করে চার লাখ টাকা আয় করেছেন। বাকি ফল বিক্রি করে আরও প্রায় ছয় লাখ টাকার আয় হবে বলে আশা করছেন।
আতর আলীর মতে, পুরো চাষাবাদে তার খরচ হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাজারদর ভালো থাকায় এবার তিনি খরচের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি লাভের আশা করছেন।
জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘হানিকুইন’-এর
শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত আনারসের মধ্যে Honey Queen Pineapple স্বাদ ও মিষ্টতার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে বড় আকারের আনারস পাইকারি বাজারে প্রায় ৬০ টাকা, মাঝারি ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা
আতর আলীর সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকই এখন আনারস চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি জানান, এই চাষ শুধু তার নিজের জীবনই বদলায়নি, বরং এলাকার অনেক কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃষিতে বহুমুখী সফলতা
শুধু আনারস নয়, পাহাড়ি টিলায় তিনি মাল্টা, কফি, কাজুবাদাম, লটকন, আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, মরিচসহ নানা ফল ও ফসলের চাষ করছেন। তার এই বহুমুখী কৃষি উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তার কৃষি সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাকে শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে আনারসের সম্ভাবনা
শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই আনারসের জন্য পরিচিত। উঁচু-নিচু টিলাভূমি, অনুকূল জলবায়ু এবং উর্বর মাটি এই অঞ্চলে আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে, যেখানে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৬ টন ফলন পাওয়া যায়। বছরে প্রায় ৬ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়।
স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব আনারস ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে রমজান মাসে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
তবে আনারস একটি পচনশীল ফল হওয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকাই কৃষকদের বড় সমস্যা। মৌসুমে একসঙ্গে বেশি ফল পাকলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়, ফলে অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে শ্রীমঙ্গলের আনারস ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!