Dark Mode
Image
  • Wednesday, 02 September 2026
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে জেনে নিন, কারা থাকবেন দূরে

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে জেনে নিন, কারা থাকবেন দূরে

ওজন কমানো এবং সুস্থ জীবনযাপনের লক্ষ্যে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত খাদ্যাভ্যাসগুলোর একটি হলো ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ করা হয় এবং দীর্ঘ সময় উপোস থাকতে হয়। সাধারণত ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খাওয়ার নিয়মটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।

সহজ এবং কার্যকর মনে হওয়ায় অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।

এ অবস্থায় মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘাম হওয়া এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করা উচিত।

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নয়

গর্ভাবস্থা এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা মা ও শিশুর উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এ ছাড়া বুকের দুধ উৎপাদনও কমে যেতে পারে। তাই এই সময়ে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

গ্যাস্ট্রিক ও আলসার রোগীদের সমস্যা বাড়াতে পারে

যারা অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক, গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

খাবার ছাড়া দীর্ঘ সময় থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার ফলে বুক জ্বালাপোড়া, পেটব্যথা, অস্বস্তি এবং বদহজমের সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

দীর্ঘ সময় উপোস থাকলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে হৃদরোগী বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

যারা নিয়মিত হার্ট বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য অনুপযুক্ত

১৮ বছরের কম বয়সীদের শরীর এখনও বৃদ্ধি ও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। এ সময় পর্যাপ্ত ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন হয়।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হলে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কিশোর-কিশোরীদের এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগব্যাধি এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

তাই ওজন কমানো বা সুস্থ থাকার জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Comment / Reply From