দেশি ফলেই শিশুর পুষ্টির পূর্ণতা
দেশি ফলেই মিলবে শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার পুষ্টি
শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, মেধার বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সুষম খাদ্যের পাশাপাশি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিবিদদের মতে, ফল প্রকৃতির দেওয়া এক ধরনের ‘ভিটামিন ক্যাপসুল’, যা শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর খাদ্যতালিকায় নিয়মিত বিভিন্ন রঙের দেশি ফল রাখলে শুধু পুষ্টির ঘাটতি পূরণই হয় না, বরং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। এতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চিনি ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরশীলতাও কমে।
কেন শিশুর খাদ্যতালিকায় ফল থাকা জরুরি?
বেশিরভাগ ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ শিশুদের সহজেই আকৃষ্ট করে। তাই কঠিন খাবার শুরু করার পর ফল হতে পারে স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প। ফলে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শিশুর মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, চোখ, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করে।
এ ছাড়া ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের ফলের সঙ্গে পরিচিত হলে শিশুর স্বাদবোধের বিকাশ ঘটে এবং নতুন খাবার গ্রহণের আগ্রহও বাড়ে।
শিশুর জন্য উপকারী কয়েকটি দেশি ফল
কলা
কলা সহজপাচ্য ও শক্তির অন্যতম ভালো উৎস। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, বি৬, সি এবং খাদ্যআঁশ। এগুলো শিশুর শক্তি জোগানোর পাশাপাশি হৃদযন্ত্র, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
পেয়ারা
পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। এটি শিশুকে সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন বি৩ ও বি৬ মস্তিষ্কের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
আম
ছয় মাস বয়সের পর থেকে পরিমিত পরিমাণে পাকা আম দেওয়া যেতে পারে। ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ এই ফল চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
তবে কাঁচা আম ছোট শিশুদের জন্য উপযোগী নয় এবং প্রথমবার খাওয়ানোর পর অ্যালার্জির লক্ষণ আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।
পেঁপে
পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং প্যাপাইন এনজাইম হজমশক্তি বাড়াতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত ৭-৮ মাস বয়সের পর খোসা ও বীজ ফেলে অল্প পরিমাণে পাকা পেঁপে দেওয়া যেতে পারে।
তরমুজ
গরমের দিনে শিশুর শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে তরমুজ দারুণ কার্যকর। এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। ছয় মাস বয়সের পর বীজমুক্ত ছোট টুকরা করে বা পরিমিত পরিমাণে রস হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।
আনারস
আনারসে রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ ও খাদ্যআঁশ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, হজমে সহায়তা এবং হাড়ের সুস্থ বিকাশে ভূমিকা রাখে।
লিচু
লিচুতে রয়েছে ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও কপার। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। তবে কখনোই খালি পেটে লিচু খাওয়ানো উচিত নয় এবং পরিমাণও নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।
লেবু
লেবু ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এতে থাকা পেকটিন হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। বয়স উপযোগীভাবে লেবুর রস দেওয়া হলে শিশু সতেজ অনুভব করতে পারে।
কাঁঠাল
জাতীয় ফল কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রাকৃতিক শর্করা ও খাদ্যআঁশ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শক্তি জোগাতে সহায়ক। সাধারণত ৮-১০ মাস বয়সের পর ছোট ছোট টুকরা করে দেওয়া যেতে পারে।
জাম
জাম আয়রন, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি ফল। এটি রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে জাম খাওয়ানো উচিত নয়।
ফল খাওয়ানোর সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
-
বয়স অনুযায়ী ফল নির্বাচন করুন।
-
প্রথমবার নতুন কোনো ফল দিলে অল্প পরিমাণে দিন।
-
অ্যালার্জির লক্ষণ আছে কি না পর্যবেক্ষণ করুন।
-
ফল ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ও বীজ ফেলে পরিবেশন করুন।
-
ফলের রসের চেয়ে সম্পূর্ণ ফল খাওয়ানো বেশি উপকারী।
-
অতিরিক্ত ফল না দিয়ে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে দিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি দেশি ফল শিশুদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং সহজলভ্য। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বয়স উপযোগী বিভিন্ন ফল রাখলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও স্বাস্থ্যকর ও শক্তিশালী হয়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!