ফাস্টফুড মেনুর ৭ গোপন ফাঁদ, যেভাবে অজান্তেই বাড়ছে শরীরের মেদ
ব্যস্ত জীবনে ফাস্টফুড এখন অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ। অফিসের ব্যস্ততা, সময়ের অভাব কিংবা স্বাদের আকর্ষণে বার্গার, পিৎজা, ফ্রাইড চিকেন বা বিভিন্ন কম্বো মিলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে এসব খাবার অর্ডার করার সময় মেনুতে ব্যবহৃত কিছু আকর্ষণীয় শব্দ ও অফার অনেকের অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি ও চর্বি গ্রহণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টফুডের সব খাবার সমানভাবে ক্ষতিকর না হলেও কিছু নির্দিষ্ট মেনু আইটেম ও বিপণন কৌশল মানুষের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ক্যালোরি শরীরে জমা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
১. ‘ক্রিস্পি’, ‘ফ্রাইড’ ও ‘ব্রেডেড’ খাবার
মেনুতে ‘ক্রিস্পি’, ‘ফ্রাইড’ বা ‘ব্রেডেড’ শব্দ দেখলেই সতর্ক হওয়া উচিত। সাধারণত এসব খাবার প্রচুর তেলে ডুবিয়ে ভাজা হয়। ফলে এতে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। নিয়মিত এমন খাবার খেলে শরীরে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
২. ‘সুপ্রিম’ বা ‘ডিল্যাক্স’ সংস্করণ
অনেকেই মনে করেন ‘সুপ্রিম’ বা ‘ডিল্যাক্স’ মানেই উন্নতমানের খাবার। বাস্তবে এসব সংস্করণে অতিরিক্ত চিজ, মাংস, সস বা অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়, যা ক্যালোরি ও সোডিয়ামের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে একটি সাধারণ বার্গারের তুলনায় এসব খাবার অনেক বেশি ভারী হয়ে ওঠে।
৩. স্পেশাল সসের লুকানো বিপদ
ফাস্টফুডের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন স্পেশাল সস, মেয়োনেইজ ও ডিপিং সসে প্রচুর চিনি, তেল এবং ক্যালোরি থাকে। সামান্য পরিমাণ সসও একটি খাবারের মোট ক্যালোরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. ‘রিফ্রেশার’ ও মিষ্টি কফি
খাবারের সঙ্গে কোল্ড কফি, ফ্লেভারড ড্রিংকস বা তথাকথিত ‘রিফ্রেশার’ পানীয় নেওয়া অনেকের অভ্যাস। কিন্তু এসব পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
৫. কম্বো বা ভ্যালু মিলের প্রলোভন
অল্প টাকায় বেশি খাবার পাওয়ার লোভে অনেকেই কম্বো বা ভ্যালু মিল বেছে নেন। কিন্তু এতে সাধারণত বড় আকারের পানীয়, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং অতিরিক্ত খাবার যুক্ত থাকে। ফলে শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরি প্রবেশ করে।
৬. ‘আনলিমিটেড’ অফারের ফাঁদ
‘অল ইউ ক্যান ইট’ বা ‘আনলিমিটেড’ অফার মানুষের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অফারে মানুষ সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি খাবার গ্রহণ করে থাকে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৭. স্বাস্থ্যকর মনে হওয়া ‘বোল’ খাবার
অনেকে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে বার্গার বা পিৎজার বদলে বিভিন্ন রাইস বোল বা সালাদ বোল অর্ডার করেন। তবে এসব খাবারে অনেক সময় সাদা ভাত, অতিরিক্ত ড্রেসিং, মেয়োনেইজ, ভাজা উপকরণ বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যুক্ত থাকে, যা ক্যালোরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
সচেতন থাকাই সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টফুড খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করা জরুরি। মেনুর আকর্ষণীয় নাম বা অফারের পরিবর্তে খাবারের উপাদান ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অর্ডার করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি গ্রহণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সুস্থ থাকতে চাইলে ফাস্টফুড মেনুর চটকদার শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এসব ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!