বিশ্বসেরা স্ট্রিট ফুডের শহর এখন প্যারিস!
বিশ্বের সেরা স্ট্রিট ফুডের শহর প্যারিস, তালিকায় পিছিয়ে এশিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনেক পর্যটক স্ট্রিট ফুড এড়িয়ে চললেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে কোনো শহরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্থানীয় জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে পথের ধারের খাবার। আর সেই বিবেচনায় বিশ্বের সেরা স্ট্রিট ফুড সিটির স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা ১০০টি শহরের প্রায় ৬ হাজার ৮৯৭টি স্ট্রিট ফুড বিক্রেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রকাশ করেছে লাগেজ স্টোরেজ নেটওয়ার্ক র্যাডিক্যাল স্টোরেজ। খাবারের গুণগত মান, ক্রেতাদের রেটিং, বৈচিত্র্য, নিরামিষ খাবারের সুযোগ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে দোকানের ঘনত্ব বিবেচনায় এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।
শীর্ষে প্যারিস
১০-এর মধ্যে ৭.২ স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম স্থান দখল করেছে প্যারিস। শহরটিতে প্রায় ৪০১টি স্ট্রিট ফুড স্টল রয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৬৯.১ শতাংশ বিক্রেতার রেটিং চার স্টার বা তার বেশি।
ক্রেপ, ব্যাগেট স্যান্ডউইচ, ক্রয়সাঁ, ম্যাকারঁসহ ঐতিহ্যবাহী ফরাসি খাবারের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশের বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায় এখানে। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাদের অনন্য সমন্বয় তৈরি হয়েছে প্যারিসের পথঘাটে।
গ্রিসের শক্ত অবস্থান
স্ট্রিট ফুডের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গ্রিসের এথেন্স, যার স্কোর ৬.৯। শহরটি সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারের জন্যও জনপ্রিয়। এথেন্সের প্রায় ৮১.৫ শতাংশ স্ট্রিট ফুড বাজেট-ফ্রেন্ডলি।
এ ছাড়া তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে থেসালোনিকি এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে রোডস। ফলে শীর্ষ ১০-এর মধ্যে তিনটি শহরই গ্রিসের।
বৈচিত্র্যে এগিয়ে লন্ডন
খাবারের বৈচিত্র্যের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। শহরটিতে প্রায় ৩৯ ধরনের ভিন্ন ক্যাটাগরির স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। ভারতীয় কারি, ক্যারিবীয় বারবিকিউ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশের জনপ্রিয় খাবার সহজেই মিলবে সেখানে।
ভেগানদের জন্য সেরা শহর
নিরামিষ বা ভেগান খাবারের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা। শহরটির ৫২.১ শতাংশ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা প্ল্যান্ট-বেসড বা ভেগান খাবার পরিবেশন করেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালির ফ্লোরেন্স।
সংখ্যায় এগিয়ে এশিয়া
স্ট্রিট ফুড স্টলের সংখ্যার বিচারে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে এশিয়া। জাপানের টোকিওতে রয়েছে সর্বোচ্চ ৪১৪টি স্ট্রিট ফুড স্টল। এছাড়া ওসাকা, ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং হো চি মিন সিটিতেও দ্রুত বাড়ছে স্ট্রিট ফুড ব্যবসা।
তবে সামগ্রিক মান, রেটিং, বৈচিত্র্য এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে ইউরোপের শহরগুলো এগিয়ে থাকায় সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে এশিয়ার অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তালিকায় ভিয়েতনামের হ্যানয় অষ্টম স্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ভ্রমণে স্ট্রিট ফুড এখন শুধু খাবার নয়; এটি একটি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনধারা জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!