Dark Mode
Image
  • Friday, 31 July 2026
ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি পান কি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি পান কি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনের শুরুতে এক কাপ গরম চা বা কফি অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কফি বা চা পান করা শরীরের জন্য আদৌ উপকারী কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ভাঙার পরপরই ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক জাগ্রত হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরকে সতেজ করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। গবেষণা অনুযায়ী, ঘুম ভাঙার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে কর্টিসলের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এই সময় যদি কফি পান করা হয়, তাহলে ক্যাফেইন শরীরের প্রাকৃতিক জাগ্রত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এতে ধীরে ধীরে শরীর ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এছাড়া মস্তিষ্কে থাকা অ্যাডিনোসিন নামের একটি রাসায়নিক সারাদিন জমতে থাকে, যা ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি করে। ঘুমের সময় এর বেশিরভাগই দূর হয়ে যায়। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি পান করলে অবশিষ্ট অ্যাডিনোসিন পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ পায় না।

ফলে কয়েক ঘণ্টা পর ক্যাফেইনের প্রভাব কমে গেলে হঠাৎ করে তীব্র ক্লান্তি, ঝিমুনি বা শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকেই বিশেষজ্ঞরা 'ক্যাফেইন ক্র্যাশ' বলে থাকেন।

গবেষকদের পরামর্শ, ঘুম থেকে ওঠার ৬০ থেকে ৯০ মিনিট পর প্রথম কাপ কফি পান করা সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর নিজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি জেগে ওঠে এবং ক্যাফেইনের কার্যকারিতাও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।

সকালের শুরুটা আরও স্বাস্থ্যকর করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয়। পাশাপাশি সকালের প্রাকৃতিক সূর্যের আলো শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সচল রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত ক্যাফেইনের প্রয়োজনও কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি বা চা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সঠিক সময়ে পান করলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে, দিনের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং হঠাৎ ক্লান্তি নেমে আসার ঝুঁকিও কমে।

Comment / Reply From