মিষ্টি খেয়েও কমবে ওজন, ডায়েটে রাখুন এই ৩ প্রোটিন পুডিং
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই সবার আগে মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন মিষ্টির লোভ সামলে রাখা বেশ কঠিন। সুখবর হলো, চিনি ছাড়াও এমন কিছু স্বাস্থ্যকর পুডিং তৈরি করা যায়, যা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ক্ষুধা কম লাগে এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও কমে। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবে চিনি ছাড়া প্রোটিন পুডিং হতে পারে দারুণ একটি বিকল্প।
কেন প্রোটিন পুডিং খাবেন?
চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত ডেজার্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি প্রোটিন পুডিং শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়। একই সঙ্গে এটি মিষ্টি খাওয়ার চাহিদা পূরণ করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক ফল, চিয়া বীজ, দুধ, বাদাম ও কোকোর মতো উপাদান দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর পুডিং।
১. কলা ও চকলেট প্রোটিন পুডিং
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- পাকা কলা – ২টি
- কোকো পাউডার – ৩ টেবিল চামচ
- ঘন দুধ বা কাঠবাদামের দুধ – ২ কাপ
- চিয়া বীজ – ৩ টেবিল চামচ
- ভ্যানিলা এসেন্স – ১ চা চামচ
তৈরির প্রণালি
ব্লেন্ডারে কলা, কোকো পাউডার, দুধ এবং ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে মিহি করে ব্লেন্ড করুন। এরপর একটি বাটিতে ঢেলে চিয়া বীজ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
মিশ্রণটি ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অথবা সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরিবেশনের সময় ওপর থেকে কলার টুকরো ও সামান্য ডার্ক চকলেট কুঁচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
২. খেজুর ও কাঠবাদামের পুডিং
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- খেজুর – ১ কাপ
- খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম – আধা কাপ
- দুধ – ২ কাপ
- জিলেটিন পাউডার – ১ চা চামচ
তৈরির প্রণালি
খেজুর ও কাঠবাদাম সামান্য গরম দুধে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
অন্যদিকে দুধ গরম করে তাতে জিলেটিন গুলে নিন। এবার খেজুর ও কাঠবাদামের পেস্ট দুধের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক মিনিট নাড়ুন।
মিশ্রণটি বাটিতে ঢেলে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর এই পুডিং।
৩. আম ও চিয়া পুডিং
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- পাকা আমের পাল্প – ১ কাপ
- চিয়া বীজ – ৪ টেবিল চামচ
- নারিকেলের দুধ অথবা টকদই – ১ কাপ
তৈরির প্রণালি
নারিকেলের দুধ বা টকদইয়ের সঙ্গে আমের পাল্প ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এতে চিয়া বীজ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে কাচের গ্লাস বা বাটিতে ঢেলে দিন।
৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখার পর এটি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। আম প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত চিনি বা মধু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
ডায়েটে কেন এই পুডিং রাখবেন?
প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ এসব পুডিং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। একই সঙ্গে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পায় এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!