ব্যর্থতা পেরিয়ে বিশ্বজয়, ৯ অনুপ্রেরণার গল্প
পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না করা কিংবা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই বড় হতাশার কারণ। ভালো ফলের চাপ, অন্যের সঙ্গে তুলনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কখনো কখনো তাদের আত্মবিশ্বাসেও আঘাত হানে। অথচ জীবনের সাফল্যের গল্পগুলো বলছে, একটি পরীক্ষার ফল কিংবা শিক্ষাজীবনের কোনো বাধাই মানুষের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না।
বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব রাখা অনেক মানুষকে জীবনের শুরুতে শিক্ষাগত দুর্বলতা, প্রত্যাখ্যান কিংবা প্রচলিত পথে এগোতে না পারার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ কলেজের পড়াশোনা শেষ করেননি, কেউ বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আবার কেউ নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে মানানসই পথ খুঁজে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এমন নয় যে সবাই পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। তবে প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর আলাদা গল্প।
১. রিচার্ড ব্র্যানসন: স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েই ব্যবসার পথে
ব্রিটিশ উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্র্যানসন ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়তেন। ডিসলেক্সিয়ার কারণে পড়াশোনায়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে তরুণদের জন্য ‘স্টুডেন্ট’ নামের একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের কাজে মনোযোগ দেন।
সেই উদ্যোগ থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। পরে সংগীত, ভ্রমণ, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে গড়ে তোলেন ভার্জিন গ্রুপ।
ব্র্যানসনের গল্পের বিশেষ দিক হলো, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব জায়গায় তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন, সেগুলোকে নিজের ভবিষ্যতের একমাত্র পরিচয় হতে দেননি। বরং আগ্রহ, উদ্যোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের জন্য ভিন্ন পথ তৈরি করেছেন।
২. জ্যাক মা: একের পর এক প্রত্যাখ্যানেও থামেননি
চীনের উদ্যোক্তা ও আলিবাবার সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা তাঁর জীবনের ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা নিয়ে বহুবার কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দুবার এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষাতেও কয়েকবার সফল হতে পারেননি।
পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি খুঁজতেও বাধার মুখে পড়েন। নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, কেএফসিতে চাকরির জন্য ২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৩ জন নির্বাচিত হলেও তিনি বাদ পড়েছিলেন। হার্ভার্ডে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থামাতে পারেনি। ১৯৯৯ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতাদের নিয়ে আলিবাবা গড়ে তোলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি পরে বৈশ্বিক ই-কমার্স খাতের অন্যতম পরিচিত নাম হয়ে ওঠে।
জ্যাক মার গল্প মনে করিয়ে দেয়, বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া মানেই ভবিষ্যতের সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে সামনে এগোতে হলে প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের কৌশল বদলানোও জরুরি।
৩. জে কে রাউলিং: প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে হ্যারি পটারের স্রষ্টা
‘হ্যারি পটার’ সিরিজের লেখক জে কে রাউলিংয়ের সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই বই পড়া ও লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। তিনি এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা ও ধ্রুপদি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন।
পরে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে নানা ব্যক্তিগত ও আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হন। তাঁর লেখা হ্যারি পটারের প্রথম বইয়ের পাণ্ডুলিপিও প্রকাশক ব্লুমসবারি গ্রহণ করার আগে একাধিক প্রকাশকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
অবশেষে বইটি প্রকাশিত হলে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় হ্যারি পটার সিরিজ বিশ্বজুড়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদেরও আকৃষ্ট করে।
রাউলিংয়ের গল্পের শিক্ষা হলো, কোনো লেখা প্রথমবারেই স্বীকৃতি না পেলে তার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না। তবে সাফল্যের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য, অনুশীলন এবং নিজের কাজকে আরও ভালো করে তোলার চেষ্টা।
৪. স্টিভ জবস: কলেজ ছেড়ে প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত
অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস প্রচলিত শিক্ষাজীবনের পথে শেষ পর্যন্ত এগোননি। যুক্তরাষ্ট্রের রিড কলেজে ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথায় নিয়মিত পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। তবে এরপরও কিছু ক্লাসে আগ্রহ অনুযায়ী অংশ নিতেন।
কলেজের আনুষ্ঠানিক পাঠক্রমের বাইরে নকশা ও প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে। ১৯৭৬ সালে স্টিভ ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েনের সঙ্গে অ্যাপল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত কম্পিউটার, সংগীত শোনার ডিভাইস ও স্মার্টফোনের নকশা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে অ্যাপল। যদিও নিজের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব থেকে একপর্যায়ে সরে যেতে হয়েছিল জবসকে, পরে তিনি আবার ফিরে এসে প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জবসের জীবনের গল্প দেখায়, প্রচলিত শিক্ষাপথ থেকে সরে এলেও শেখা বন্ধ করা যায় না। তবে তাঁর সিদ্ধান্তকে সবার জন্য কলেজ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; তাঁর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা, সহযোগিতা ও দীর্ঘদিনের কাজ বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৫. বিল গেটস: হার্ভার্ড ছেড়ে মাইক্রোসফট গড়ার সিদ্ধান্ত
বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার আগেই ১৯৭৫ সালে বন্ধু পল অ্যালেনের সঙ্গে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট গড়ার কাজে মনোযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন।
তাঁর লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা এবং প্রযুক্তিকে আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। সময়ের সঙ্গে মাইক্রোসফট কম্পিউটার সফটওয়্যার শিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
গেটসের গল্পের মূল বিষয় পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রচলিত শিক্ষাজীবনের বাইরে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাঁর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বাজার সম্পর্কে ধারণা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এ থেকে বোঝা যায়, সাফল্যের পথ ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তবে কোনো বিশেষ মানুষের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত অন্য সবার জন্য একই ফল বয়ে আনবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
৬. সাইমন কোয়েল: পড়াশোনার বাইরে নিজের দক্ষতা খুঁজে পাওয়া
সংগীত ও বিনোদনজগতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব সাইমন কোয়েল ‘আমেরিকান আইডল’, ‘এক্স ফ্যাক্টর’ এবং ‘ব্রিটেনস গট ট্যালেন্ট’-এর বিচারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।
স্কুলজীবনে পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ খুব বেশি ছিল না। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়ার পর সংগীতশিল্পের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হন। ক্যারিয়ারের শুরুতে সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মেইলরুমে কাজ করেন। পরে প্রতিভা খুঁজে বের করা, সংগীতশিল্পী তৈরি এবং টেলিভিশনভিত্তিক বিনোদন অনুষ্ঠান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর যাত্রায় প্রথম থেকেই সাফল্য আসেনি। সংগীত ব্যবসায় কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থ উদ্যোগের মুখোমুখিও হয়েছেন। কিন্তু শিল্পী নির্বাচন, দর্শকের রুচি বোঝা এবং বিনোদন অনুষ্ঠান তৈরির দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
কোয়েলের অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো একটি বিষয়ে আগ্রহ থাকলে সেটিকে দক্ষতায় রূপান্তর করতে বাস্তব কাজ ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার না করেই নিজের প্রতিভা ও আগ্রহ চেনার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
৭. বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ: গণিতের দুর্বলতা সত্ত্বেও অভিনয়ে সাফল্য
‘শার্লক’ সিরিজে শার্লক হোমসের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ব্রিটিশ অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ। বাস্তব জীবনে তিনি স্বীকার করেছেন, স্কুলে গণিত তাঁর শক্তিশালী বিষয় ছিল না। কিন্তু কোনো একটি বিষয়ে দুর্বলতা তাঁর অভিনয়শিল্পী হয়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে লন্ডন একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামাটিক আর্টে প্রশিক্ষণ নেন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজের মাধ্যমে অভিনয়দক্ষতা গড়ে তোলেন।
পরবর্তী সময়ে ‘দ্য ইমিটেশন গেম’-এ অ্যালান টুরিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করে অস্কারে সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনয়নসহ নানা স্বীকৃতি অর্জন করেন।
কাম্বারব্যাচের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গণিতের মতো কোনো একটি বিষয়ে দুর্বল থাকা মানেই সামগ্রিক মেধার অভাব নয়। মানুষের দক্ষতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। নিজের শক্তির জায়গা চিহ্নিত করা এবং সেটিকে বিকশিত করার সুযোগ পাওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।
৮. ধীরুভাই আম্বানি: ছোট উদ্যোগ থেকে বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য
ভারতের রিলায়েন্স শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি ছোট পরিসর থেকে ব্যবসা শুরু করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য পরিচিত। তুলনামূলক সাধারণ পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা আম্বানি তরুণ বয়সে ইয়েমেনে কাজ করেছিলেন। পরে ভারতে ফিরে সুতা ও বস্ত্রের ব্যবসায় যুক্ত হন।
ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে তিনি রিলায়েন্সকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেন। ১৯৭৭ সালে রিলায়েন্স টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারবাজারে প্রবেশ প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
তাঁর সাফল্যকে শুধু স্কুলের ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং ব্যবসায়িক সুযোগ চিহ্নিত করা, বাজার সম্পর্কে ধারণা, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ধীরুভাই আম্বানির জীবন দেখায়, বড় উদ্যোগ গড়ে তুলতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাও থাকে—সেটিও মনে রাখা প্রয়োজন।
৯. উইনস্টন চার্চিল: দুর্বল শিক্ষার্থী থেকে নোবেলজয়ী লেখক
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের স্কুলজীবন খুব উজ্জ্বল ছিল না। ইতিহাস ও ইংরেজির প্রতি আগ্রহ থাকলেও গণিত ও লাতিনসহ কিছু বিষয়ে তিনি সমস্যায় পড়তেন। সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্যান্ডহার্স্টে ভর্তির পরীক্ষায়ও প্রথম দুইবার ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বার সফল হন।
পরে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করেন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচিত।
চার্চিলের রাজনৈতিক জীবনের বাইরেও সাহিত্যচর্চা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান—মূলত ঐতিহাসিক ও জীবনীমূলক লেখালেখি এবং বক্তৃতাশিল্পের স্বীকৃতিস্বরূপ।
তাঁর জীবন দেখায়, শিক্ষাজীবনের এক পর্যায়ের দুর্বলতা ভবিষ্যতের সব সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না। আগ্রহ, অধ্যবসায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা মানুষকে নতুন পথ দেখাতে পারে।
পরীক্ষার ফল কি সাফল্যের শেষ কথা?
এই নয়জনের জীবন একেবারে একই রকম নয়। কেউ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন, কেউ চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, কেউ মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, আবার কেউ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বল হলেও অন্য ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভা বিকশিত করেছেন।
তাঁদের গল্পের শিক্ষা এই নয় যে ভালো ফল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়। বরং শিক্ষা মানুষের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও সুযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে একটি পরীক্ষার নম্বর দিয়ে কারও সব দক্ষতা, সৃজনশীলতা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিচার করাও ঠিক নয়।
পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে নিজের ভুলগুলো বোঝা, প্রয়োজনে শিক্ষকের সাহায্য নেওয়া এবং নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। আবার প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিতে সমস্যা হলে নিজের শেখার ধরন, আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী সহায়তা খোঁজাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যর্থতা জীবনের শেষ নয়। সেটি থেকে কী শেখা গেল, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হলো এবং কতটা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করা গেল—সাফল্যের পথে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!