মাছের আঁশ: বর্জ্য থেকে বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সোনা
বাংলাদেশে সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলা হতো মাছের আঁশ। কিন্তু টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখন এই আঁশ জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশে রফতানি হচ্ছে। প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার বেশি মাছের আঁশ বিদেশে পাঠানো হয়।
মাছের আঁশ মূলত কোলাজেন সমৃদ্ধ, যা খাদ্য, ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হয়। এছাড়া চীন ও জাপানে এটি দিয়ে বায়ো পাইজোইলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর তৈরিতে ব্যবহার হয়, যা রিচার্জেবল ব্যাটারি চার্জ করতে সক্ষম। মাছের আঁশ ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক পণ্য, কৃত্রিম কর্নিয়া এবং মাছ-পোলট্রি খাদ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৭ হাজার ২৭৮ টন মাছের আঁশ উৎপন্ন হয়, যার ৯০% রফতানি হয়। প্রতি টন আঁশের দাম ৩৫০–৪৭০ ডলার। এ খাতে সরাসরি জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, এবং ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করে ১০–১২টি প্রতিষ্ঠান।
মাছের আঁশ সংগ্রহের পর ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করা হয়। তারপর পাইকারদের কাছে প্রতি মণ ৩৬০০–৪০০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। বড় মাছের আঁশের দাম বেশি, ছোট মাছের আঁশের দাম কম।
নিউট্রিশন ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছের আঁশ থেকে নতুন খাদ্য উপাদান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রযুক্তির অভাব ও বিনিয়োগের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মাছের আঁশ জিন্স, কাপড়, ক্যাপসুলের খোসা ও প্রসাধনী সামগ্রী তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এই খাতে গবেষণা চালিয়ে ইতিমধ্যেই সফল উদ্ভাবন করেছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!