Dark Mode
Image
  • Wednesday, 04 February 2026
শিশুর দৈনিক ক্যালরি চাহিদা: বয়সভেদে প্রয়োজন ও খাবার থেকে শক্তির হিসাব

শিশুর দৈনিক ক্যালরি চাহিদা: বয়সভেদে প্রয়োজন ও খাবার থেকে শক্তির হিসাব

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে এই ক্যালরির চাহিদা সব শিশুর ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, ওজন, শারীরিক গঠন, বেড়ে ওঠার গতি এবং দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড—সবকিছুর ওপর নির্ভর করে শিশুর ক্যালরি প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরে ক্যালরি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় হয়—দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম (বেসিক মেটাবলিজম), শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা (থার্মোরেগুলেশন) এবং খেলাধুলা ও দৈহিক বৃদ্ধির জন্য। পর্যাপ্ত পোশাক বা উষ্ণতার অভাবে শিশুর শরীর অপ্রয়োজনে বেশি ক্যালরি খরচ করে, যা তার পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

অনেক সময় অভিভাবকেরা শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে উল্টো শিশুর মধ্যে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা ও বয়স অনুযায়ী খাবার দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।

বয়সভেদে শিশুর ক্যালরি চাহিদা

শিশুদের ক্যালরি প্রয়োজন সাধারণত প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী হিসাব করা হয়।

  • ০–১২ মাস: প্রতি কেজিতে ৮৫–১১০ কিলোক্যালরি

  • ১–৩ বছর: প্রতি কেজিতে ৮৫–৯৫ কিলোক্যালরি

  • ৩–১২ বছর: প্রতি কেজিতে ৬০–৮৫ কিলোক্যালরি

অকালপ্রসূত বা প্রিম্যাচিওর শিশুর ক্ষেত্রে দৈনিক প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি প্রয়োজন হতে পারে। সুস্থ নবজাতক শিশু প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় সব ক্যালরি ও পুষ্টি পায়।

একটি সহজ হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে শিশুর দৈনিক ক্যালরি চাহিদা প্রায় ১০০০ কিলোক্যালরি। এরপর ১০০০ কিলোক্যালরির সঙ্গে শিশুর বয়সের বছর যোগ করলে মোট চাহিদা বোঝা যায়। যেমন—২ বছরের শিশুর প্রয়োজন প্রায় ১০০২ কিলোক্যালরি, ৪ বছরের শিশুর প্রয়োজন ১০০৪ কিলোক্যালরি।

চার বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে ক্যালরি চাহিদা কমতে থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে এসে প্রতি কেজি ওজনে ক্যালরির প্রয়োজন নেমে আসে প্রায় ৪০ কিলোক্যালরিতে। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে ক্যালরি নির্ধারণ করা হয় তার বর্তমান উচ্চতার ভিত্তিতে, ওজনের ভিত্তিতে নয়।

কোন খাবারে কত ক্যালরি

শিশুর খাদ্যতালিকায় ক্যালরির প্রধান উৎস তিনটি—শর্করা, আমিষ ও চর্বি।

  • শর্করা: প্রতি গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি

  • আমিষ (প্রোটিন): প্রতি গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি

  • চর্বি বা স্নেহ: প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি

অপুষ্ট শিশুর খাবারে অতিরিক্ত তেল বা মাখন যোগ করা যেতে পারে, তবে স্থূলকায় শিশুর খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চর্বি কম রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের দুধ ও সুষম খাবারে ক্যালরি বণ্টনের ধরন প্রায় একই—মোট ক্যালরির ৯–১৫ শতাংশ আসে আমিষ থেকে, ৩৫–৫৫ শতাংশ আসে শর্করা থেকে এবং ৩৫–৪৫ শতাংশ আসে চর্বি থেকে। সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখলেই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

Comment / Reply From