Dark Mode
Image
  • Friday, 30 January 2026

হাত–পায়ে পানি জমছে কেন? কোন লক্ষণে বুঝবেন ঝুঁকি বাড়ছে

হাত–পায়ে পানি জমছে কেন? কোন লক্ষণে বুঝবেন ঝুঁকি বাড়ছে

হাত ও পায়ে পানি জমা বা ফোলাভাব আমাদের দেশে খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, হাঁটাহাঁটি বা ক্লান্তির কারণে সাময়িকভাবে এই ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ, এটি কখনো কখনো কিডনি, হার্ট কিংবা লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সমস্যার আগাম সতর্ক সংকেতও হতে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক **ডা. আবেদ হোসেন খান** জানান, হাত–পায়ে পানি জমার পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ কাজ করতে পারে।

### হাত–পায়ে পানি জমার সাধারণ কারণ

ডা. আবেদ হোসেন খানের মতে, প্রধান কারণগুলো হলো—

* **কিডনি রোগ:** কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হতে পারে না, ফলে পা ও হাতে ফোলাভাব দেখা দেয়।
* **হার্টের সমস্যা:** হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, বিশেষ করে পা ও গোড়ালিতে পানি জমে।
* **লিভারের রোগ:** লিভারের সমস্যায় শরীরের প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়, এতে শরীর পানি ধরে রাখতে শুরু করে।
* **থাইরয়েডের সমস্যা:** থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে মুখ, হাত ও পায়ে ফোলা দেখা দিতে পারে।
* **অন্তঃসত্ত্বাকালীন পরিবর্তন:** গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন ও রক্তনালীর ওপর চাপের কারণে পায়ে পানি জমতে পারে।
* **ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:** স্টেরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ বা কিছু ব্যথানাশক ওষুধে ফোলাভাব হতে পারে।
* **অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ:** বেশি লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে।
* **শিরার সমস্যা:** ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি) বা দীর্ঘমেয়াদি শিরার দুর্বলতায় এক বা দুই পা ফুলে যেতে পারে।

### যেসব উপসর্গ বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়

হাত–পায়ে ফোলার সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার—

* শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে শুয়ে থাকলে
* মূত্রের পরিমাণ কমে যাওয়া বা ফেনাযুক্ত হওয়া
* হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া
* চোখের নিচে ফোলা
* চোখ বা শরীর হলুদাভ হওয়া
* পেটে পানি জমা
* একপাশের পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া
* পায়ের ত্বক লাল, কালচে বা ব্যথাযুক্ত হওয়া
* পায়ে ঘা তৈরি হওয়া

### নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ কেন বিপজ্জনক

ডা. আবেদ হোসেন খান সতর্ক করে বলেন, অনেকেই ফোলাভাব দেখলেই মূত্রবর্ধক ওষুধ (যেমন: ফ্রুলেক বা ফুসিড) খেয়ে থাকেন। এতে সাময়িকভাবে পানি কমলেও মূল রোগ ধরা পড়ে না। উল্টো এতে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও শরীরের লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

### সাময়িকভাবে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

* কিছু সময় পা উঁচু করে রাখা
* দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা
* লবণ কম খাওয়া
* পর্যাপ্ত পানি পান করা
* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

### কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন

নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—

* হঠাৎ খুব দ্রুত হাত–পা ফুলে যাওয়া
* শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা
* মূত্রের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া
* ফোলার সঙ্গে লালচে ভাব, ব্যথা বা গরম অনুভূত হওয়া
* পেট, মুখ বা পুরো শরীরে পানি জমা
* দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া
* গর্ভাবস্থায় পা ফোলার সঙ্গে মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা
* ফোলাভাব ২–৩ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া

চিকিৎসকদের মতে, হাত–পায়ে পানি জমাকে ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসাই পারে বড় জটিলতা এড়াতে।

হাত–পায়ে পানি জমছে কেন? কোন লক্ষণে বুঝবেন ঝুঁকি বাড়ছে

Comment / Reply From

You May Also Like