Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

আবহাওয়া বদলালেই কেন বাড়ে হাড়ের ব্যথা? জানাচ্ছে বিজ্ঞান

আবহাওয়া বদলালেই কেন বাড়ে হাড়ের ব্যথা? জানাচ্ছে বিজ্ঞান

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেরই হাড়ের ব্যথা বেড়ে যায়—বিশেষ করে বৃষ্টি, শীত বা হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে। বিষয়টি শুধু ধারণা নয়, এর পেছনে রয়েছে একাধিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশগত পরিবর্তন আমাদের শরীরের জয়েন্ট, পেশি ও স্নায়ুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে গেলে বাড়ে ব্যথা
বৃষ্টির আগে সাধারণত বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায়। চাপ কমার ফলে শরীরের ভেতরের টিস্যু বা কলাগুলো সামান্য প্রসারিত হয়। কিন্তু হাড়ের জয়েন্টের মতো সীমিত জায়গায় এই প্রসারণ হলে সেখানে থাকা সংবেদনশীল স্নায়ুগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।

ঠান্ডায় জয়েন্টের পিচ্ছিল রস ঘন হয়ে যায়
শীতকালে বা তাপমাত্রা কমে গেলে জয়েন্টের ভেতরের ‘সাইনোভিয়াল ফ্লুইড’ বা পিচ্ছিল রস ঘন হয়ে পড়ে। ফলে হাড়ের গাঁটগুলো আগের মতো সহজে নড়াচড়া করতে পারে না। জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যথা অনুভূত হয়।

পেশির সংকোচনও দায়ী
ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর তাপ ধরে রাখতে পেশি ও লিগামেন্টকে সংকুচিত করে। এই বাড়তি টান বা চাপ ব্যথার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নড়াচড়া কম হলে সমস্যা বাড়ে
মেঘলা আবহাওয়া বা শীতে আমরা সাধারণত ঘরের ভেতর থাকতে পছন্দ করি। শারীরিক নড়াচড়া কমে গেলে জয়েন্টগুলো আরও বেশি শক্ত হয়ে পড়ে, যা ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

🟦 ব্যথা কমাতে করণীয়

আবহাওয়ার পরিবর্তন আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কিছু সতর্কতা মেনে চললে ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

নিজেকে উষ্ণ রাখুন: পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরুন। ব্যথার জায়গায় গরম পানির সেঁক বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশি শিথিল হয়।

সক্রিয় থাকুন: বাইরে যেতে না পারলেও ঘরের ভেতরে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করুন। জয়েন্ট যত সচল থাকবে, ব্যথা তত কম হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার কারণে হওয়া ব্যথা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা জয়েন্ট লাল হয়ে ফুলে যায়, তবে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: ওয়েব এমডি, পাবমেড
তথ্যসূত্র: ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

Comment / Reply From