স্থূলতা একটি রোগ, বাঁচতে মানুন ৬ নিয়ম
স্থূলতা কেবল বাড়তি ওজন নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে এই সমস্যা, আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ শতাধিক জটিলতা। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি।
আপনার ওজন কি স্বাভাবিক?
নিজের ওজন ঠিক আছে কি না তা জানার সহজ উপায় হলো বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) নির্ণয় করা। ওজন (কেজি)কে উচ্চতার বর্গ (মিটার) দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় বিএমআই।
বিএমআই ২৫ বা তার বেশি হলে ওভারওয়েট
৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা
৪০-এর বেশি হলে গুরুতর স্থূলতা
তবে এশীয়দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মানদণ্ড কিছুটা কম ধরা হয়। এশীয়দের জন্য ২৩ বা তার বেশি হলে ওভারওয়েট এবং ২৭ বা তার বেশি হলে স্থূলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্মার্টফোনে বিভিন্ন বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেও সহজে হিসাব করা যায়।
স্থূলতা প্রতিরোধে ৬টি করণীয়
Bangladesh Endocrine Society প্রতিদিনের জীবনে ছয়টি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে—
১. শূন্য চিনি বা চিনিযুক্ত পানীয় বর্জন
২. প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত
৩. দুই ঘণ্টার কম স্ক্রিন টাইম
৪. তিন বেলা পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ
৫. চারটি মূল ভিত্তির চিকিৎসা মেনে চলা (খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম, আচরণগত পরিবর্তন ও প্রয়োজনে ওষুধ)
৬. পাঁচবার ফল ও সবজি খাওয়া এবং কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা
টোটকা নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বাজারে নানা হারবাল ও ভ্রান্ত ডায়েট পদ্ধতির প্রচার দেখা যায়। তবে এসবের বেশিরভাগেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্থূলতা প্রতিরোধে কার্যকর উপায়।
মনে রাখতে হবে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে চার শতাধিক রোগের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এটিকে হালকাভাবে না নিয়ে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম—এই তিনেই লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!