Dark Mode
Image
  • Saturday, 28 February 2026
মস্তিষ্ক তরুণ রাখুন, মানুন ৫ বৈজ্ঞানিক উপায়

মস্তিষ্ক তরুণ রাখুন, মানুন ৫ বৈজ্ঞানিক উপায়

শরীরকে ফিট রাখতে যেমন নিয়মিত ব্যায়াম প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে দরকার সচেতন চর্চা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ, শখের চর্চা ও মানসিক অনুশীলন ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করে—যা বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ককে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।

BBC–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন তরুণ রাখার পাঁচটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

১. নতুন কিছু শেখা কখনো বন্ধ করবেন না

জ্ঞানগত স্বাস্থ্য মানে হলো—যুক্তি করা, সমস্যা সমাধান, মনোযোগ ধরে রাখা ও দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা। বয়সের সঙ্গে এগুলো কিছুটা ধীর হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

Heriot-Watt University–এর মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গাওয়ের মতে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। নতুন ভাষা শেখা, বাগান করা বা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন—এসব কাজ মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় রাখে এবং Alzheimer's disease–এর লক্ষণ প্রকাশ কয়েক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারে।

২. মস্তিষ্কবান্ধব খাবার বেছে নিন

সুষম খাদ্য শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের জন্যও অপরিহার্য। আঁশসমৃদ্ধ খাবার (ফাইবার) নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়—এমন প্রমাণ রয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়।

ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ মাছ, আখরোটের মতো পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক। কোলিনের ঘাটতি হলে পারকিনসনস ও আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ভারী ব্যায়াম সম্ভব না হলে অন্তত নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ব্যায়াম মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে সক্রিয় রাখে এবং বিষণ্নতাও কমায়।

৪. সামাজিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিন

বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া বা নতুন কোর্সে অংশ নেওয়া—এসবই মানসিক শক্তি বাড়ায়। World Health Organization সামাজিক সংযোগকে ‘বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘পারস্পরিক আত্ম-উন্মোচন’ বা খোলামেলা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করে এবং মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫. ছোট পরিবর্তন, বড় ফল

বড় কোনো ‘ম্যাজিক সমাধান’ নয়—ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল দেয়। ফিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক FINGER study–তে দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মানসিক প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কার্যক্রমের সমন্বিত চর্চা দুই বছরে জ্ঞানগত উন্নতি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

শেষ কথা

মস্তিষ্ক তরুণ রাখতে আলাদা কোনো রহস্য নেই। ভালো খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, নতুন কিছু শেখা ও অর্থবহ সম্পর্ক—এই চার অভ্যাসই দীর্ঘদিন মানসিক সতেজতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। আজ থেকেই ছোট পরিবর্তন শুরু করুন, ভবিষ্যতের মস্তিষ্ক আপনাকেই ধন্যবাদ দেবে।

Comment / Reply From