৪০ পেরোলেই কি কমাতে হবে লাল মাংস?
গরু, খাসি কিংবা ভেড়ার মাংস ছাড়া উৎসবের আয়োজন যেন অনেকটাই অসম্পূর্ণ। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলজনিত সমস্যাও বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—লাল মাংস বা রেড মিট কতটা খাওয়া নিরাপদ এবং কোন বয়স থেকে এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন?
রেড মিট কেন বলা হয়?
যেসব মাংসে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ বেশি থাকে এবং কাঁচা অবস্থায় লাল রঙের দেখা যায়, সেগুলোকে রেড মিট বা লাল মাংস বলা হয়। গরু, খাসি, ভেড়া ও মহিষের মাংস এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ লাল মাংস
লাল মাংসে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন বি-১২সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এগুলো শরীরের পেশি গঠন, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কোথায়?
পুষ্টিগুণ থাকলেও লাল মাংসে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। অতিরিক্ত লাল মাংস খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে কেন সতর্কতা প্রয়োজন?
শিশু, কিশোর এবং তরুণ বয়সে শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। এ সময় প্রোটিন ও আয়রনের চাহিদা বেশি থাকায় পরিমিত লাল মাংস উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে ৩০ বছরের পর শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। অনেকেরই শারীরিক পরিশ্রম কমে যায় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে। ফলে এই বয়সের পর লাল মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি।
৪০-এর পর কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছর বয়সের পর লাল মাংসের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা উচিত। তবে এর অর্থ পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। সপ্তাহে এক বা দুইবার সীমিত পরিমাণে চর্বিবিহীন টাটকা মাংস খাওয়া যেতে পারে।
এ সময় খাদ্যতালিকায় মাছ, মুরগি, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস বাড়ানো ভালো। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ, সালামি বা প্রসেসড মিট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন
যাদের পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের লাল মাংস গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত।
এ ছাড়া ৩০ বছরের পর নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রান্নার ধরনেও আনুন পরিবর্তন
লাল মাংস স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে চাইলে রান্নার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত চর্বি ফেলে দিয়ে কম তেলে রান্না করা, ছোট ও পাতলা টুকরা ব্যবহার করা এবং বারবার গরম না করে তাজা রান্না করা মাংস খাওয়াই উত্তম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাল মাংস পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। তবে বয়স, শারীরিক সক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!