Dark Mode
Image
  • Wednesday, 10 June 2026
প্রতিদিনের এই ৫ ভুলেই বাড়ছে পায়ের ব্যথা!

প্রতিদিনের এই ৫ ভুলেই বাড়ছে পায়ের ব্যথা!

অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার পর হঠাৎ হাঁটতে বের হলেন, আর কিছুক্ষণ যেতেই শুরু হলো পায়ে ব্যথা। অনেকেই এটিকে বয়সের প্রভাব বা সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাসই হতে পারে পায়ের ব্যথার অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানিয়েছেন, জীবনযাপনের ছোটখাটো পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ হাঁটা

অফিসে সাত-আট ঘণ্টা একটানা বসে থাকার পর সরাসরি দ্রুত হাঁটা শুরু করলে পায়ের পেশিতে হঠাৎ চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে পেশি ও রক্ত সঞ্চালন কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ফলে একবারে বেশি চাপ নিলে গোড়ালি, পায়ের পাতা কিংবা কাফ মাসলে ব্যথা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হাঁটার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট ওয়ার্ম-আপ করুন। ধীরে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং এবং পা ঘোরানোর মতো ব্যায়াম পেশিকে প্রস্তুত করে।

সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত হাঁটা

অনেকেই সারা সপ্তাহ ব্যস্ত থাকার কারণে ছুটির দিনে অনেকটা পথ হাঁটার চেষ্টা করেন। কিন্তু শরীর ধীরে ধীরে চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। হঠাৎ অতিরিক্ত হাঁটলে পেশি, লিগামেন্ট ও জয়েন্টে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে।

এতে প্লান্টার ফ্যাসাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে পায়ের পাতার নিচে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। তাই সপ্তাহে একদিন বেশি হাঁটার বদলে প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

পুরোনো জুতা ব্যবহার

বাইরে থেকে দেখতে ভালো থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে জুতার ভেতরের কুশনিং নষ্ট হয়ে যায়। তখন হাঁটার সময় পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং হাঁটুতে সরাসরি ধাক্কা লাগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এক থেকে দুই বছরের বেশি সময় একই জুতা ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে ইনসোল পরিবর্তন করা যেতে পারে, তবে জুতা খুব বেশি পুরোনো হলে নতুন জুতা ব্যবহার করাই নিরাপদ।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করাও ঝুঁকিপূর্ণ

শুধু হাঁটাই নয়, একটানা দাঁড়িয়ে থাকলেও পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দোকানে কাজ করা, রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা অন্য যেকোনো কাজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পেশি ও হাড়ের জোড়ে ক্লান্তি তৈরি হয়।

এই সমস্যা এড়াতে মাঝেমধ্যে বসে বিশ্রাম নেওয়া, রাবারের ম্যাট ব্যবহার করা এবং এক পায়ে বেশি সময় ভর না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বাড়তি ওজনের প্রভাব

শরীরের অতিরিক্ত ওজন পায়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটার সময় হাঁটুতে শরীরের ওজনের প্রায় তিন থেকে চার গুণ চাপ পড়ে।

অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ কেজি ওজন বাড়লে হাঁটার সময় হাঁটুতে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ কেজি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে সায়াটিকা, অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ব্যথা কমাতে কী করবেন?

পায়ে ব্যথা শুরু হলে অযথা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার আগে বরফ সেঁক দিতে পারেন। দিনে দুই থেকে তিনবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট বরফ সেঁক প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া নিয়মিত স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়। সকালে এবং হাঁটার আগে হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস উপকারী।

তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড থেরাপি বা শকওয়েভ থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসাও গ্রহণ করা যেতে পারে।

ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে স্বস্তি

পায়ে ব্যথা হওয়া মানেই বয়সের দোষ নয়। বরং নিয়মিত ওয়ার্ম-আপ, প্রতিদিন অল্প হাঁটা, সঠিক জুতা ব্যবহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রাম—এই কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুললেই অনেকাংশে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে সুস্থ ও ব্যথামুক্ত পায়ের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

Comment / Reply From