Dark Mode
Image
  • Friday, 13 March 2026
বাংলাদেশে বাড়ছে কিডনির রোগ: কারণ ও প্রতিরোধের উপায় 🩺

বাংলাদেশে বাড়ছে কিডনির রোগ: কারণ ও প্রতিরোধের উপায় 🩺

বাংলাদেশে কিডনির রোগ এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, বিশ্বজুড়েও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রতি ১০ জনে একজন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত।

বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৬ থেকে ২২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে ভুগছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো—এদের বড় একটি অংশই জানেন না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত।

কেন কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’?

চিকিৎসকদের মতে, Chronic Kidney Disease বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে তখনই, যখন কিডনির কার্যক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

এই পর্যায়ে রোগীর সামনে সাধারণত দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি থাকে—ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলেও বাস্তবে এর অর্ধেকেরও কম রোগী নিয়মিত এই সেবা পাচ্ছেন।

কেন বাড়ছে কিডনির রোগ?

বাংলাদেশে কিডনির রোগ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ Diabetes–এ আক্রান্ত। পাশাপাশি প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ High Blood Pressure বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে তারা এসব রোগে আক্রান্ত, ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না।

আগেভাগে শনাক্তকরণই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির রোগ যদি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কয়েকটি সাধারণ ও কম খরচের পরীক্ষার মাধ্যমেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যায়।

এর মধ্যে রয়েছে—

রক্তচাপ পরীক্ষা

প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা

রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা

রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত কিডনি স্ক্রিনিং চালু করা গেলে অনেক মানুষকে গুরুতর জটিলতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

প্রতিরোধে করণীয়

কিডনির রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয় পর্যায়েই কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তীব্র গরমে মাঠে কাজ করা কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা

কাজের ফাঁকে বিশ্রামের সুযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা

কিডনি রোগের আগাম শনাক্তকরণকে স্বাস্থ্যনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া

কিডনি সুস্থ রাখার ৮টি সোনালি নিয়ম

চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব—

পর্যাপ্ত পানি পান করা

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা

লবণ ও অতিরিক্ত চিনি কম খাওয়া

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা

সুষম খাদ্য গ্রহণ

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকা

নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশে কিডনির রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Comment / Reply From