ইনসুলিন ট্যাবলেটের পথে জাপানের বড় সাফল্য
ডায়াবেটিস চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে জাপানের নতুন এক গবেষণা। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ইনসুলিনকে ট্যাবলেট আকারে দেওয়ার চেষ্টা করলেও মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাকস্থলীর এনজাইম ইনসুলিনকে ভেঙে ফেলে, ফলে এটি রক্তে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারে না।
সম্প্রতি Kumamoto University-এর গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। তাদের উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ সাইক্লিক পেপটাইড—‘ডিএনপি পেপটাইড’, যা ইনসুলিনকে ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে নিরাপদে রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
দুটি পদ্ধতিতে সফল পরীক্ষা
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দুটি আলাদা পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালান—
- ইনসুলিনের সঙ্গে পেপটাইড মিশিয়ে প্রয়োগ
- ইনসুলিন ও পেপটাইডকে রাসায়নিকভাবে যুক্ত করে প্রয়োগ
উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ইঁদুরের রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে এই প্রযুক্তি।
শোষণ ক্ষমতায় বড় উন্নতি
এই গবেষণার অন্যতম বড় সাফল্য হলো ইনসুলিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ানো। নতুন পদ্ধতিতে প্রায় ৩৩ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শোষণ নিশ্চিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে কম মাত্রার ইনসুলিন দিয়েই কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মানবদেহে পরীক্ষার অপেক্ষা
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Molecular Pharmaceutics জার্নালে। বর্তমানে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও গবেষকরা ইতোমধ্যে বড় প্রাণীর ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। সফল হলে পরবর্তী ধাপে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হবে।
রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ডায়াবেটিস চিকিৎসা আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। প্রতিদিন ইনজেকশনের পরিবর্তে ট্যাবলেটের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করা সম্ভব হলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!