Dark Mode
Image
  • Monday, 27 April 2026
এআই স্বাস্থ্য পরামর্শে ভুলের ঝুঁকি: নতুন গবেষণায় উদ্বেগ

এআই স্বাস্থ্য পরামর্শে ভুলের ঝুঁকি: নতুন গবেষণায় উদ্বেগ

ধরা যাক, আপনি হঠাৎ জানতে পারলেন আপনার ক্যানসার হয়েছে—তাও প্রাথমিক পর্যায়ে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে আপনি একটি এআই চ্যাটবটের কাছে জানতে চাইলেন, কোথায় ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে। কয়েক সেকেন্ডে চ্যাটবট আপনাকে সাজানো-গোছানো উত্তর দিল, এমনকি সূত্রও দিল। সবকিছু দেখে মনে হলো, এটি যেন একজন বিশেষজ্ঞের লেখা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, অনেক তথ্যই ভিত্তিহীন, আর উল্লেখ করা সূত্রগুলোর অস্তিত্বই নেই।

এটি কোনো কাল্পনিক ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চিত্রই উঠে এসেছে, যা এআই-নির্ভর স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে

BMJ Open-এ প্রকাশিত গবেষণায় সাতজন গবেষক বিশ্বের জনপ্রিয় পাঁচটি চ্যাটবট—ChatGPT, Gemini, Grok, Meta AI এবং DeepSeek—কে স্বাস্থ্যবিষয়ক ২৫০টি প্রশ্ন করেন।

এই প্রশ্নগুলো ছিল ক্যানসার, টিকা, পুষ্টি, স্টেম সেল ও খেলাধুলার পারফরম্যান্স ঘিরে। প্রতিটি উত্তরের সত্যতা যাচাই করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক—

  • প্রায় ২০% উত্তর সম্পূর্ণ ভুল
  • ৫০% উত্তরে ছিল গুরুতর সমস্যা
  • মাত্র ৩০% উত্তর তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য
  • ২৫০টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ২টি ক্ষেত্রে চ্যাটবট উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়

সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে Grok—এর ৫৮% উত্তরেই সমস্যা ছিল। এরপর রয়েছে ChatGPT (৫২%) এবং Meta AI (৫০%)।

কোন প্রশ্নে বেশি ভুল হয়

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী ভুলের হার ভিন্ন—

  • হ্যাঁ/না ধরনের প্রশ্নে ভুল: মাত্র ৭%
  • বিস্তারিত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে ভুল: প্রায় ৩২%

বাস্তব জীবনে মানুষ সাধারণত বিস্তারিত পরামর্শই জানতে চায়—যেমন, “কোন সাপ্লিমেন্ট সবচেয়ে ভালো?”—এমন প্রশ্নেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

সূত্রও সব সময় ভুয়া হতে পারে

গবেষকেরা চ্যাটবটগুলোর কাছে বৈজ্ঞানিক সূত্র চাইলে দেখা যায়—

  • গড় সম্পূর্ণতা মাত্র ৪০%
  • অনেক ক্ষেত্রে ভুল লেখকের নাম, অকার্যকর লিংক, এমনকি পুরোপুরি বানোয়াট গবেষণাপত্র দেওয়া হয়েছে

এই বিষয়টি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ সাধারণ ব্যবহারকারীরা সূত্র দেখলেই সেটিকে সত্য ধরে নিতে পারেন।

কেন এমন ভুল হয়

এআই চ্যাটবট আসলে মানুষের মতো “জানে” না। এগুলো কাজ করে সম্ভাব্য শব্দের পূর্বাভাস দিয়ে। ফলে—

  • যাচাইকৃত গবেষণার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগের তথ্যও মিশে যায়
  • সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সব সময় নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না
  • প্রশ্ন যেভাবে করা হয়, তার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে

গবেষকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন ব্যবহার করেছিলেন—যাকে এআই গবেষণায় “রেড টিমিং” বলা হয়—যাতে দুর্বলতা ধরা পড়ে।

অন্য গবেষণাও কী বলছে

Nature Medicine-এ প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে—

  • এআই নিজে থেকে ৯৫% সময় সঠিক উত্তর দিতে পারে
  • কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেই সঠিক উত্তর পান ৩৫% এরও কম ক্ষেত্রে

অন্যদিকে JAMA Network Open-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়—

  • সীমিত তথ্য দিলে এআই ৮০% ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ
  • কিন্তু পূর্ণ মেডিকেল ডেটা দিলে নির্ভুলতা ৯০%+

কী বোঝা গেল

এই গবেষণাগুলো একসঙ্গে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—
এআই শক্তিশালী হলেও এটি এখনো নির্ভুল চিকিৎসক নয়।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে এআই থেকে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

শেষ কথা:
এআই আপনাকে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু আপনার জীবন নির্ধারণ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনো এটি একা যথেষ্ট নয়।

Comment / Reply From