কালো জিরা: প্রাচীন আয়ুর্বেদে ভরসার এক প্রাকৃতিক ওষুধ
প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় কালো জিরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ছোট আকারের এই মসলা শরীরের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও উপশমে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও উপকারী উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কালো জিরার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগুণ—
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কালো জিরায় থাকা ফসফরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পেটের সমস্যা দূর করে
হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিতে কালো জিরার জুড়ি নেই। আয়ুর্বেদিক মতে, আধা কাপ কুসুম গরম দুধের সঙ্গে এক চিমটে কালো জিরার গুঁড়া মিশিয়ে খেলে পেটের সমস্যা দ্রুত উপশম হয়।
প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে
কালো জিরা শরীরে অ্যান্টি-টক্সিনের মতো কাজ করে। ফলে প্রস্রাব পরিষ্কার, নিয়মিত ও স্বাভাবিক রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তা করে
কালো জিরায় থাকা আয়রন ও ফসফেট শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় এটি বিশেষভাবে উপকারী।
মাথাব্যথা ও সর্দি-কাশিতে উপকারি
আবহাওয়া পরিবর্তন বা বর্ষাকালে অনেকের ঠান্ডা লেগে মাথাব্যথা ও ঝিম ঝিম ভাব হয়। এই ক্ষেত্রে একটি ছোট কাপড়ে কালো জিরা বেঁধে রোদে ঘণ্টাখানেক শুকিয়ে নাকের কাছে ধরলে বুকে ও মাথায় জমে থাকা কফ তরল হয়ে সহজে বেরিয়ে আসে। এতে মাথাব্যথা ও অস্বস্তি কমে যায়।
প্রাকৃতিক এই উপাদানটি নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শরীর সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে পরিমিত মাত্রা ও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করাই উত্তম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!