কিডনি ডায়ালাইসিস কেন অপরিহার্য হয়ে ওঠে
কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন, অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেওয়া—এই সব দায়িত্ব স্বাভাবিক অবস্থায় কিডনিই পালন করে। তবে কিডনি যখন ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতার বড় অংশ হারিয়ে ফেলে, তখন জীবন রক্ষায় ডায়ালাইসিস ছাড়া বিকল্প থাকে না।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ হারালে রোগী ‘এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ’-এ আক্রান্ত হন। এই পর্যায়ে কিডনি আর রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও পানি অপসারণ করতে পারে না। ফলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে যায়। এর ফল হিসেবে শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, চরম দুর্বলতা এমনকি হৃদ্যন্ত্রের মারাত্মক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে প্রস্রাব একেবারে কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে গেলে এবং রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ অতিরিক্ত পটাশিয়াম হৃৎস্পন্দন ব্যাহত করে হঠাৎ মৃত্যুঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়ালাইসিস সাধারণত দুই পদ্ধতিতে করা হয়—হেমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। হেমোডায়ালাইসিসে বিশেষ একটি যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের বাইরে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীকে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার হাসপাতালে যেতে হয় এবং প্রতিবার প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে।
অন্যদিকে পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসে পেটের ভেতরের প্রাকৃতিক পর্দা ব্যবহার করে রক্ত পরিষ্কার করা হয়, যা চিকিৎসকের নির্দেশনায় রোগী বাসায় বসেই করতে পারেন।
ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় হাতে ‘এভি ফিস্টুলা’ তৈরি বা ক্যাথেটার বসানোর জন্য ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পরিবারের সহযোগিতা ও মানসিক শক্তি বড় ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সেবন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম কিডনি রোগীর জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে শরীর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ভয় বা দ্বিধা না করে সঠিক সময়ে ডায়ালাইসিস শুরু করলে এবং পটাশিয়াম ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখলে একজন কিডনি রোগী দীর্ঘদিন তুলনামূলক স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসাই এখানে জীবন রক্ষার প্রধান চাবিকাঠি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!