অসুখ বুঝে ইসবগুল: কখন, কীভাবে খাবেন?
কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম বা পেটের নানা সমস্যায় ঘরোয়া উপায় হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত ইসবগুলের ভুসি। শুধু পেট পরিষ্কারই নয়, হজম শক্ত করা, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল সামলাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন—ইসবগুল খাওয়ার উপকার পেতে হলে রোগ অনুযায়ী সঠিক সময়ে ও সঠিক উপায়ে খাওয়া জরুরি। শুধু পানিতে মিশিয়ে খেলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসবগুল মূলত দ্রবণীয় আঁশ (ফাইবার), যা অন্ত্রে পানি শোষণ করে কাজ করে। তাই কখন, কীভাবে এবং কোন মাধ্যমে এটি খাচ্ছেন—সেটাই নির্ধারণ করে এর কার্যকারিতা।
কোষ্ঠকাঠিন্যে
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কুসুম গরম পানিতে এক থেকে দুই চা-চামচ ইসবগুল ভুসি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। গুরুতর সমস্যা হলে কুসুম গরম পানির বদলে দুধেও ইসবগুল মিশিয়ে খাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দুধে ভুসি মিশিয়ে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে রাতে খাবারের পর খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
অম্বল ও বুকজ্বালায়
অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে ঠান্ডা দুধে ইসবগুল মিশিয়ে খাওয়া উপকারী। এতে পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডের প্রভাব কমে এবং বুকজ্বালার অনুভূতি হ্রাস পায়।
ডায়রিয়া বা পেট খারাপে
পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার সময় পানির সঙ্গে নয়, বরং টক দইয়ের সঙ্গে ইসবগুল মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এতে অন্ত্রে পানি শোষণ বাড়ে এবং পায়খানা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে
ইসবগুল খেলে পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে কিছু সময়ের জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে। সাধারণত পানিতে বা দুধে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে
রক্তে বাড়তি শর্করা বা খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পানিতে ইসবগুল মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি খাবার থেকে শর্করা শোষণের গতি ধীর করে।
তবে মনে রাখতে হবে, ইসবগুল খেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন ভাবা ঠিক নয়। দীর্ঘদিনের অসুখ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!