বয়স অনুযায়ী কত প্রোটিন দরকার জানেন?
বর্তমান সময়ে ফিটনেস সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিন গ্রহণের প্রবণতাও বেড়েছে। অনেকেই প্রতিদিন ডিমের সাদা অংশ, প্রোটিন শেক কিংবা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শরীরের জন্য কি প্রতিদিন এত বেশি প্রোটিন সত্যিই প্রয়োজন? পুষ্টিবিদদের মতে, না। বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের উপকার না করে বরং ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন শরীরের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী প্রায় ০.৮ গ্রাম। অর্থাৎ কারও ওজন যদি ৭০ কেজি হয়, তাহলে দিনে প্রায় ৫৫–৫৬ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট। অথচ অনেকেই এর চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন গ্রহণ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
শিশু ও কিশোরদের প্রোটিন চাহিদা
শিশু ও কিশোর বয়সে শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
৪–৮ বছর বয়সে দিনে প্রায় ২০–২৫ গ্রাম
৯–১৩ বছরে ৩০–৩৫ গ্রাম
১৪–১৮ বছরে ছেলেদের ৫০–৫৫ গ্রাম এবং মেয়েদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন
এই সময় ডিম, দুধ, মাছ, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি।
কর্মজীবী বয়সে কতটা প্রোটিন দরকার
২০ থেকে ৫০ বছর বয়সে শারীরিক পরিশ্রম ও কাজের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। এ সময় পুরুষদের দৈনিক গড়ে ৫৫–৬০ গ্রাম এবং নারীদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা ভারী শারীরিক কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন কিছুটা বাড়তে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদেরও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রোটিন দরকার হয়।
বৃদ্ধ বয়সে প্রোটিন কেন জরুরি
৬০ বছরের পর ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় শুরু হয়। ফলে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। এই বয়সে শরীরের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী ১–১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে, যাতে পেশি শক্ত থাকে এবং চলাফেরা সহজ হয়।
প্রোটিনের ভালো উৎস
ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, পনির, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। তবে মনে রাখতে হবে—বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা নয়। বয়স, ওজন ও শরীরের চাহিদা বুঝে সুষম খাদ্য গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!