Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

ঝোপঝাড়ে জন্মানো গ্রামবাংলার মুখরোচক শাক ‘খারকোন’—খাবার ও ওষুধের অনন্য ভাণ্ডার

ঝোপঝাড়ে জন্মানো গ্রামবাংলার মুখরোচক শাক ‘খারকোন’—খাবার ও ওষুধের অনন্য ভাণ্ডার

গ্রামবাংলার ঝোপঝাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায় এক বিশেষ ধরনের শাক—খারকোন। গ্রামের মানুষের কাছে এটি একটি পরিচিত ও শৌখিন মুখরোচক খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অঞ্চলভেদে এই শাকটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। কোথাও একে বলা হয় ঘেট কচু বা ঘের কচু। আদিবাসী চাকমা সম্প্রদায় একে খারবাস বা খারাকেও নামে চেনে, আর গারো সম্প্রদায়ের কাছে এর নাম কালমান।

খারকোন শাকের বৈজ্ঞানিক নাম Typhonium trilobatum। এটি Araceae পরিবারভুক্ত একটি উদ্ভিদ। প্রধানত শাক হিসেবে খাওয়া হলেও লোকজ চিকিৎসায় এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।

গ্রামীণ রান্নায় খারকোন

খারকোন শাকের ডাটা ও পাতা রসুন, কালোজিরা ও শুকনা মরিচ ভেজে পাটায় বেটে ভর্তা করে খাওয়া হয়। বিশেষ করে টাঙ্গাইল অঞ্চলে খুদের ভাতের সঙ্গে এই ভর্তা গ্রামের মানুষের খুব প্রিয়। এছাড়া ডাটা ছোট ছোট করে কেটে শুঁটকি মাছ দিয়ে ভেজেও রান্না করা হয়, যা স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য।

লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার

খারকোন শাক শুধু খাদ্য নয়, ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কলার সঙ্গে খারকোন শাক খেলে পাকস্থলীর নানা সমস্যা উপশম হয় বলে গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। গারো সম্প্রদায় গবাদিপশুর শরীরে ঘা হলে এই শাকের শিকড় মিহি করে বেটে পেস্ট তৈরি করে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করে থাকেন।

কোথায় পাওয়া যায়

এই শাকটি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, সিলেট ও ঢাকা অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। সাধারণত ঝোপঝাড় বা অনাবাদি জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়।

গাছের গঠন ও বৈশিষ্ট্য

খারকোন শাকের গাছের ডাটা লম্বা এবং কিছুটা খয়েরি রঙের। পাতাগুলো গাঢ় সবুজ, তিন কোনা ও খাঁজকাটা আকৃতির। গাছে লাল রঙের ফুল ফোটে, যা দেখতে অনেকটা কলমের মতো।

খাদ্য, ওষুধ ও সংস্কৃতির এক অনন্য সংমিশ্রণ খারকোন শাক—যা আজও গ্রামবাংলার জীবনধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

Comment / Reply From