বল সুন্দরীতে বাজিমাত: বদলে গেল দুই তরুণের ভাগ্য
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষিও হতে পারে সাফল্যের বড় হাতিয়ার—তারই উজ্জ্বল উদাহরণ নওগাঁর দুই তরুণ রাব্বি হাসান ও শাহাদত হোসেন। ২০১৮ সালে বদলগাছী উপজেলায় একটি বরই বাগান ঘুরে দেখেই কৃষিতে আগ্রহ জন্মায় তাদের। এরপর ২০২০ সালে মাত্র দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন ব্যতিক্রমী বরই চাষ। আজ সেই উদ্যোগই বদলে দিয়েছে তাদের জীবনের গতিপথ।
গাছে কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে সিঁদুর লাল বা হলুদ রঙের এই বরই দেখতে অনেকটা ছোট আপেলের মতো। স্বাদেও আপেলের মতোই সুস্বাদু ও রসালো। অদ্ভুত নাম হলেও আকর্ষণীয় এই ফলের নাম ‘বল সুন্দরী’। সাধারণত অস্ট্রেলিয়ায় চাষ হওয়া এই বরই এখন বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের এই দুই বন্ধু বর্তমানে ১১ বিঘা জমিতে বল সুন্দরীর বাগান গড়ে তুলেছেন। শুরুতে ভালো মানের চারা, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করতে তারা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’-এর সহযোগিতা ও ঋণ নেন। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে বাগানটি ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।
রাব্বি হাসান জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি গাছে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত বল সুন্দরী ধরেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন তারা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই ফল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আরও প্রায় ৮ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তারা।
বাগানে বর্তমানে নিয়মিত তিনজন শ্রমিক কাজ করছেন। কুল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বাগানে আসা দর্শনার্থীদের প্রশংসায় ভাসছে বল সুন্দরী। দর্শনার্থী জেসমিন আক্তার বলেন, “আপেলের চেয়েও মিষ্টি এই বরই, খেয়ে সত্যিই তৃপ্তি পেয়েছি।” অন্য দর্শনার্থীরাও বলছেন, বাউকুল বা কাশ্মীরি কুলের তুলনায় এর চাহিদা অনেক বেশি।
মৌসুমীর কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, নওগাঁর মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রাব্বি ও শাহাদতের সাফল্য দেখে বেকার ও শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে আগ্রহী হবে বলেই তিনি আশাবাদী।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!