Dark Mode
Image
  • Thursday, 30 April 2026
পেঁয়াজু দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত 🇧🇩🍽️

পেঁয়াজু দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত 🇧🇩🍽️

বাঙালির বিকেলের পরিচিত নাশতা পেঁয়াজু ও মুড়ি দিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোড়ন তুলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান। জনপ্রিয় রান্নার প্রতিযোগিতা MasterChef UK-এ অংশ নিয়ে ইতিমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন এই অপেশাদার রাঁধুনি।

৪৯ বছর বয়সী সাবিনার তৈরি কুড়মুড়ে পেঁয়াজুকে বিচারকেরা মজা করে নাম দিয়েছেন ‘বুলেটস অব জয়’—অর্থাৎ আনন্দের বুলেট!

বিচারকদের মুগ্ধতা

প্রতিযোগিতার একটি পর্বে সাবিনার রান্না চেখে দেখেন ব্রিটিশ খাদ্য সমালোচক Jay Rayner। তিনি প্রশংসা করে বলেন, “সবকিছু একদম নিখুঁত।”

এই মুহূর্তটি সাবিনার জন্য ছিল আবেগঘন। বহুদিন ধরে যাঁকে অনুসরণ করেছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া ছিল স্বপ্নপূরণের মতো।

কী রান্না করেছিলেন সাবিনা?

সাবিনা তাঁর ডিশের নাম দেন ‘Salad of Harmony’। এতে ছিল—
বিটে রঙিন করা সেদ্ধ ডিম, মুচমুচে পেঁয়াজু, মুড়ি, গাজর, মটর, ভাজা মুরগির চামড়া, রসুন এবং শর্ষের তেলের সস।

বিশ্বখ্যাত আইরিশ শেফ Anna Haugh এই খাবারের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিটি উপাদানের স্বাদ আলাদা হলেও সব মিলিয়ে এটি অসাধারণ ‘হারমোনি’ তৈরি করেছে।

হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে এগিয়ে

BBC-এর জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে অংশ নেন সাবিনা। প্রতি হিটে ছয়জন করে প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা হয়ে তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।

এখন সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

মায়ের রান্না থেকেই অনুপ্রেরণা

ঢাকায় বেড়ে ওঠা সাবিনার রান্নার প্রতি ভালোবাসার শুরু ঘর থেকেই। তাঁর মা মুনাওয়ার ঘরেই নানা ধরনের দেশি-বিদেশি খাবার তৈরি করতেন—মাছের ঝোল থেকে পিৎজা, চায়নিজ ডিশ—সবই ছিল ঘরোয়া আয়োজনে।

সেই স্বাদ আর স্মৃতি থেকেই রান্নার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় সাবিনার।

‘ফ্লেভার ল্যাব’-এ তৈরি স্বপ্ন

লন্ডনে বসবাসকারী সাবিনা নিজের রান্নাঘরকে বলেন ‘ফ্লেভার ল্যাব’। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি।

দুই সন্তানের অনুপ্রেরণায় এবার আবার মাস্টারশেফে আবেদন করেন এবং সেই সিদ্ধান্তই তাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

শেষ কথা

দেশি পেঁয়াজু আর মুড়ির মতো সাধারণ খাবার দিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সাবিনার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের। এখন দেখার অপেক্ষা—চূড়ান্ত পর্বে গিয়ে তিনি কি বিজয়ের মুকুট পরতে পারেন।

Comment / Reply From