মধু বা গুড় কি সত্যিই চিনির বিকল্প? পুষ্টিবিদদের সতর্ক বার্তা
চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা এখন অনেকেই জানেন। তাই অনেকে চিনি বাদ দিয়ে মধু বা গুড় খাওয়াকে নিরাপদ বিকল্প মনে করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
### মধু কি পুষ্টিগুণে এগিয়ে?
মধুতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকলেও তার পরিমাণ খুবই কম। বাস্তবে মধুর প্রধান উপাদান হলো শর্করা। অনেকেই মনে করেন, প্রাকৃতিক হওয়ায় মধু চিনির চেয়ে কম ক্ষতিকর—এই ধারণা ভুল।
বরং প্রতি গ্রামে মধুতে চিনির তুলনায় ক্যালরির পরিমাণ সামান্য বেশি। শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দিনে মোট কত ক্যালরি গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই ক্যালরির উৎস কী তা নয়। তাছাড়া মধুও প্রায় চিনির মতোই দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
### গুড় কি স্বাস্থ্যকর বিকল্প?
শীতের গুড় স্বাদে অতুলনীয় হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি চিনির চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। আখের গুড় হোক বা খেজুরের গুড়—সব ক্ষেত্রেই ক্যালরির মাত্রা প্রায় চিনির কাছাকাছি। গুড়ও দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।
এ ছাড়া বাজারে পাওয়া সব গুড় যে খাঁটি, সে নিশ্চয়তাও নেই। তাই শুধুমাত্র স্বাদ বদলের জন্য গুড় ব্যবহার করলেও একে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প বলা যায় না।
### তাহলে সমাধান কী?
নিয়মিত চিনি গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। পুষ্টিবিদদের মতে, মধু, গুড়, বাদামি চিনি কিংবা কৃত্রিম মিষ্টিকারক—কোনোটিই সাদা চিনির নিরাপদ বিকল্প নয়।
সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—মিষ্টি স্বাদের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা।
### চিনি ছাড়ার সহজ অভ্যাস
হঠাৎ করে চিনি বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। তবে ধাপে ধাপে অভ্যাস বদলানো সম্ভব। যেমন—
* আগে এক চা-চামচ চিনি দিয়ে চা খেলে, শুরুতে অল্প মধু ব্যবহার করুন
* ধীরে ধীরে মধুর পরিমাণও কমান
* একসময় চিনি বা মধু ছাড়াই চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
একই পদ্ধতি অন্যান্য মিষ্টি খাবার ও পানীয়র ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে দারুচিনি, এলাচ বা আদার মতো স্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে।
### স্বাস্থ্যকর ক্যালরির উৎস বেছে নিন
প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরি আসা উচিত গোটা শস্য ও ফল থেকে, মিষ্টি খাবার বা পানীয় থেকে নয়। গোটা শস্য ও ফল রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায় এবং দীর্ঘসময় শক্তি জোগায়।
লাল চাল, লাল আটা, ওটস, যব, কিনোয়া—এসব শস্যের পাশাপাশি আপেল, কলা, খেজুর ও কিসমিস স্বাস্থ্যকর পছন্দ। ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়া বেশি উপকারী। যেসব ফল খোসাসহ খাওয়া যায়, সেগুলোর খোসা ফেলে না দেওয়াই ভালো।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!