Dark Mode
Image
  • Sunday, 22 February 2026
মুড়ির সঙ্গে জিলাপি—স্বাদ না স্বাস্থ্যঝুঁকি?

মুড়ির সঙ্গে জিলাপি—স্বাদ না স্বাস্থ্যঝুঁকি?

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের টেবিলে নানা পদের ভিড় লেগেই থাকে। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপের পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এক অনিবার্য পদ হলো মুড়িমাখা। তবে এই মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মেশানো উচিত কি না—এ নিয়ে প্রতিবছরই তর্ক-বিতর্ক জমে ওঠে।

ঐতিহ্য ও স্বাদের মেলবন্ধন

মুড়ি বাংলার প্রাচীন ও সহজপাচ্য খাবার। অন্যদিকে জিলাপির ইতিহাস মোগল আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরান ঢাকার চকবাজার–এর ইফতার সংস্কৃতিতে মুড়ি-জিলাপির মিশ্রণ বিশেষভাবে জনপ্রিয় বলে অনেকে মনে করেন।

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ঝুরঝুরে মুড়ি আর রসালো জিলাপির সংমিশ্রণ অনেকের কাছে এক অন্যরকম তৃপ্তি এনে দেয়।

পুষ্টিগুণ: কতটা উপকারী?

জিলাপিতে থাকা চিনি দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। মুড়িও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ হওয়ায় শক্তির ভালো উৎস। অল্প পরিমাণে খেলে এই সংমিশ্রণ ক্লান্তি দূর করতে ও মন ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কোথায় সতর্কতা জরুরি?

তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন—জিলাপি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং এতে প্রচুর চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। মুড়ির সঙ্গে জিলাপি খেলে গ্লাইসেমিক লোড আরও বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি যাদের আছে, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাহলে কি খাওয়া যাবে না?

মুড়ি-জিলাপি খাওয়া না-খাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে সুস্থ থাকতে চাইলে পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো উপায়। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে খেলে স্বাদও থাকবে, স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে।

Comment / Reply From