ইফতারে খেজুর কেন অপরিহার্য? জানুন পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
রমজানে ইফতারের সময় খেজুর খাওয়ার ঐতিহ্য বহুদিনের। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এই মরু ফলটির জুড়ি নেই। পুষ্টিগুণে ভরপুর খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপারসহ নানা খনিজ উপাদান ও ভিটামিন, যা শরীরকে দ্রুত চাঙা করে তোলে।
দ্রুত শক্তি জোগায়
খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। রোজা ভাঙার পর ক্লান্তি দূর করে চনমনে ভাব ফিরিয়ে আনতে এটি কার্যকর।
হজমে সহায়ক ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
খেজুরে রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার, যা হজমশক্তি উন্নত করে। নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং বদহজম, কোলাইটিস ও হেমোরয়েডের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে।
হার্ট সুস্থ রাখতে ভূমিকা
আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় খেজুর রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
হাড় মজবুত রাখে
সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কপারের মতো খনিজ উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক
আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় খেজুর শরীরে রক্ত তৈরি করতে সহায়তা করে এবং রক্তশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে পারে।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর জন্য উপকারী
খেজুরে থাকা পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক
যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তাদের জন্য খেজুর হতে পারে পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে থাকা ক্যালরি ও পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে, ইফতারে খেজুর শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশই নয়, বরং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী। তবে ডায়াবেটিস বা বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!