হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা দেয়
হার্ট অ্যাটাককে অনেকেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগে শরীর বেশ কিছু সতর্ক সংকেত দেয়—যেগুলো আমরা অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে যাই। তাই এসব উপসর্গ আগে থেকে চিনে নেওয়া এবং গুরুত্ব দেওয়া জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্রোগ ধীরে ধীরে এবং অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে এগিয়ে যায়। হৃদ্যন্ত্রের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধা শুরু হলেও তা সহজে বোঝা যায় না। তবে সম্পূর্ণ ব্লকেজ হওয়ার আগেই কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সুশান মুখোপাধ্যায় জানান, যাদের পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বুকের ব্যথা নয়, চাপ অনুভূতি
হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেক সময় তীব্র ব্যথা না হয়ে বুকের ভেতর চাপ, ভারী অনুভূতি বা চেপে ধরার মতো অস্বস্তি হয়। এই চাপ ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ, হাত বা এমনকি তলপেটেও ছড়িয়ে যেতে পারে। মাথা ঘোরা, বমিভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
বিশ্রামেও বুক ধড়ফড়
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে বিশ্রামের সময়ও অস্বাভাবিকভাবে বুক ধড়ফড় করতে পারে। একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০–৮০ বার। যদি তা ১০০-এর বেশি হয়, কিংবা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, তবে তা বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে।
অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া বলা হয়। এটি হৃদ্যন্ত্রের উপরের প্রকোষ্ঠ অ্যাট্রিয়া বা নিচের প্রকোষ্ঠ ভেনট্রিকলে দেখা দিতে পারে। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতাও এ সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
বদহজমের মতো উপসর্গ
পেটের ওপরের দিকে অস্বস্তি, বুকজ্বালা বা অম্বলের মতো উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এগুলোকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে ব্লকেজ থাকলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অনিদ্রা ও শ্বাসকষ্ট
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন আগে থেকে অনিদ্রা, মাঝরাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘাম বা দমবন্ধ লাগার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?
হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে রোগীকে দ্রুত শুইয়ে দিন এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। ঘাড়ে ভেজা তোয়ালে রাখা যেতে পারে। হাতের কাছে অ্যাসপিরিন থাকলে ১৫০ মিলিগ্রামের দুটি ট্যাবলেট চিবিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ সাপেক্ষে)। এরপর জিভের নিচে সরবিট্রেট দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মনে রাখবেন, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সবসময় একই রকম নাও হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!