Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

‘গরিবের শাক’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার সজনে—বিশ্বজুড়ে বিস্ময়কর গবেষণা

‘গরিবের শাক’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার সজনে—বিশ্বজুড়ে বিস্ময়কর গবেষণা

বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera—ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Miracle Tree বা অলৌকিক গাছ। অথচ বাংলাদেশে এই গাছটিকেই অনেক সময় অবহেলার চোখে দেখা হয়, কেউ কেউ একে ‘গরিবের শাক’ বা ‘ফকিরের শাক’ বলেও আখ্যা দেন। বাস্তবে এই সজনে গাছই আজ বিশ্বজুড়ে পুষ্টি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচনার কেন্দ্রে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি গ্রাম সজনে পাতায় রয়েছে—

* গাজরের তুলনায় চার গুণ বেশি ভিটামিন এ,
* দুধের তুলনায় চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম,
* কলার তুলনায় তিন গুণ বেশি পটাশিয়াম,
* কমলালেবুর তুলনায় সাত গুণ বেশি ভিটামিন সি,
* দইয়ের তুলনায় দুই গুণ বেশি প্রোটিন।

প্রায় চার হাজার বছর ধরে রান্না ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সজনে গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় এই গাছ দিয়ে প্রায় ৩০০ ধরনের রোগের চিকিৎসার উল্লেখ পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় বহু বছর ধরে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও ঝোপঝাড়ে স্বাভাবিকভাবেই জন্মে আসছে সজনে গাছ।

সম্প্রতি আফ্রিকার সেনেগাল, মালি সহ বিভিন্ন দেশে সজনে গাছের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। চাষ পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ—গাছের একটি ডাল মাটিতে পুঁতলেই দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই ফুল ও ফল আসে। এর পাতা, ফুল ও ফল—সবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

বাংলাদেশের মানুষ সজিনার ডাল বা সবজি হিসেবে এটি খেয়ে অভ্যস্ত হলেও, অনেকেই জানেন না যে সজনে পাতা উৎকৃষ্ট শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। অল্প তেল ও রসুন দিয়ে রান্না করা সজনে পাতা যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যকর।

সজনে পাতা ও সজিনায় রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা খাদ্যনালী ও অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। আধুনিক জীবনে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবারের ফলে রক্তনালীতে জমে থাকা চর্বি দূর করতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া সজনে গাছে থাকা আইসোথায়োসায়ানেটস নামের একটি উপাদান গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং গ্যাস্ট্রিকজনিত ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সজনে পাতার ব্যবহারও সহজ—পাতা শুকিয়ে চায়ের সঙ্গে ফুটিয়ে পান করা যায়, আবার ভর্তা বানিয়েও খাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় সজনে যুক্ত করলে শরীর পায় প্রাকৃতিক পুষ্টির এক শক্তিশালী উৎস।

চেনা এই গাছটির গুরুত্ব আমরা অনেক সময় অবহেলা করলেও, আজ বিশ্বজুড়ে গবেষণায় প্রমাণিত—সজনে সত্যিই এক বিস্ময়বৃক্ষ।

লিখেছেন: নজরুল ইসলাম টিপু

Comment / Reply From