কোলেস্টেরল কমাতে নিয়মিত খান এই ৬ মসলা
খাবারের স্বাদ, রং ও সুগন্ধ বাড়াতে মসলার ব্যবহার বহু পুরোনো। তবে শুধু রান্নার স্বাদই নয়, কিছু মসলা হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মসলা কোনোভাবেই উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম জীবনযাপনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু মসলা যোগ করলে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা মিলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মসলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান রক্তনালীকে সুরক্ষা দেয়, প্রদাহ কমায় এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
১. রসুন
রসুন হৃদ্যন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা মসলাগুলোর একটি। এতে থাকা অ্যালিসিনসহ সালফারজাতীয় যৌগ মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।
২. হলুদ
হলুদের প্রধান কার্যকর উপাদান কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। নিয়মিত পরিমিত হলুদ খেলে প্রদাহ কমতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
৩. দারুচিনি
দারুচিনি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
৪. আদা
আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল নামের যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নিয়মিত আদা খাওয়া রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা, প্রদাহ কমানো এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
৫. মেথি
মেথিতে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এলডিএল কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।
৬. গোলমরিচ
গোলমরিচে থাকা পাইপেরিন পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে হলুদের কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এটি একাই কোলেস্টেরল কমায় না, তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত লবণের বদলে গোলমরিচ ব্যবহার স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গড়ে তোলে।
মনে রাখবেন
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু মসলার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের মূল চাবিকাঠি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!