ডায়াবেটিস থাকলেও আম খেতে পারবেন, তবে মানতে হবে এই নিয়মগুলো
গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ও সুস্বাদু আমের মৌসুম। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই আম খেতে ভয় পান। কারণ, এই জনপ্রিয় ফলে প্রাকৃতিক চিনি ও শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ডায়াবেটিস থাকলে কি পাকা আম খাওয়া একেবারেই নিষেধ?
পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেও সম্পূর্ণভাবে আম এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ, সময় এবং খাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে আমের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পরিমাণের দিকে নজর দিন
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমিত খাবার গ্রহণ। একটি মাঝারি আকারের পাকা আমে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ ক্যালোরি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শর্করা থাকে।
তাই দিনে একটি মাঝারি আকারের আমের বেশি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
জুস নয়, ফল হিসেবেই খান
অনেকেই আমের জুস, ম্যাঙ্গো শেক বা বিভিন্ন ডেজার্ট খেতে পছন্দ করেন। তবে এসব ক্ষেত্রে আমের প্রাকৃতিক আঁশ বা ফাইবার অনেকটাই কমে যায়।
ফলে শরীরে চিনি দ্রুত শোষিত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই আম সবসময় টুকরো করে বা কামড়ে ফল হিসেবেই খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
একবারে না খেয়ে ভাগ করে খান
একটি পুরো আম একসঙ্গে না খেয়ে দুই ভাগে খাওয়া ভালো। চাইলে কিছু অংশ সকালে এবং বাকি অংশ বিকেলে খেতে পারেন।
এভাবে ভাগ করে খেলে শরীর ধীরে ধীরে শর্করা গ্রহণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে ঘুমানোর আগে আম না খাওয়াই ভালো। দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়ে আম খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
এ সময় শরীর খাবার হজম ও শক্তি ব্যবহারের জন্য বেশি সক্রিয় থাকে।
অন্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খান
আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
তাই শুধু আম না খেয়ে এর সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা ভালো। যেমন—
- আটার রুটি
- কাঠবাদাম বা অন্যান্য বাদাম
- অঙ্কুরিত ছোলা বা মুগ ডাল
- দই
এসব খাবারের সঙ্গে আম খেলে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তে মিশে এবং সুগারের ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সচেতন থাকুন, আমও উপভোগ করুন
আম শুধু সুস্বাদুই নয়, এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
তাই ডায়াবেটিস থাকলেই আম খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে খেলে এই মৌসুমি ফলের স্বাদ ও পুষ্টি—দুটিই উপভোগ করা সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!